August 9, 2026, 8:37 am
অযোগ্য ডাক্তারে ভরে গেছে মালুমঘাট খৃষ্টান হাসপাতাল! ভালো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত রোগীরা
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি
মালুমঘাট খৃষ্টান হাসপাতালের টিকেট কাউন্টারে যে ডাক্তারগুলো বসে সেগুলো আমার দৃষ্টিতে কোনো ডাক্তার নয়, যেন একেকজন বড় বড় মাস্তান। আজকে দাঁড়িয়ে দেখেছি, রোগীদের সাথে যেমন ইচ্ছা তেমন আচরণ করতে। ওদের মতো ডাক্তার বর্তমানে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে। তাদের তেমন যোগ্যতা নেই। শুধুমাত্র উপজাতী হওয়ার কারণে মালুমঘাট হাসপাতালে জায়গা পেয়েছে।
ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে অনেকে টিকেট পায়নি। টিকেটের কথা জানতে চাইলে কোনো সঠিক উত্তর না দিয়ে রোগীদের সাথে জোর গলায় খারাপ আচরণ করেছে।
আমি জিজ্ঞেস করে বলেছি, ভাই, আপনি ওদের সাথে এইভাবে কথা বলছেন কেন? ওনি উত্তর দিলেন, এটা আমার ব্যাপার। আপনি কে? আমি বললাম, আমি এই দেশের নাগরিক, আপনার মতো উপজাতী নই। আমি বললাম, আপনাকে ডাক্তারি কে শিখিয়েছে? আপনি কী ডাক্তার নাকি ডাস্টার? তখন চোখ লাল করে ভেতরে চলে গেলেন।
বর্তমানে মালুমঘাট খৃষ্টান হাসপাতালে ২/১ জন ভালো ডাক্তার (যারা বিদেশী) থাকলেও বেশিরভাগ জ্বর/সর্দির ডাক্তার। যেমন রোগ হউক না কেন, একই ঔষধ লিখে দেন।
৯ আগস্ট আমার ছোট ছেলেকে নিয়ে নিয়ম মত ভোর ৬ টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়েছি। সকাল ১০ টায় কাউন্টারের নিকট গেলাম। রোগের বর্ণনা দেয়ার সময় ঐ মূর্খ ডাক্তার বললেন টিকেট নাই, একটু অপেক্ষা করেন। অপেক্ষা করলাম আরো ১ ঘণ্টা। একই ভাবে অপেক্ষা করছিল প্রায় শতাধিক রোগী। পরে কয়েকজন তাদের পরিচিত লোককে টিকেট দিলেন। বাকিদেরকে টিকেট দিলেন না। অনেকে জানতে চাইল, কি সমস্যা? আমরা ভোর থেকে আমরা লাইনে দাঁড়িয়ে নিয়ম মত কাউন্টারে এসেছি। আর আপনারা বলছেন টিকেট নাই। এটা কোন ধরনের আচরণ! তখন ভেতর থেকে মেজাজ গরম করে উত্তর দিলেন আপনার এখানে আর আসবেন না। আপনাদেরকে চিকিৎসা দেয়া হবে না। তখন আমি বললাম, এটা মগের মুল্লুক নাকি? যেমন ইচ্ছা তেমন করবেন।
তাজুল নামের একজন চট্টগ্রাম থেকে আগত রোগী অভিযোগ করে বললেন, আমি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। কিন্তু আমার সাথে খারাপ আচরণ করেছে। এমনকি ধমক দিয়ে বলেছে আপনি এখানে আর আসবেন না, টিকেটও দেব না। পরিশেষে তিনি মনের দুঃখ নিয়ে চলে গেলেন।
নার্গিস নামের একজন রোগী অভিযোগ করে বলেছেন, ঐ ডাক্তার আমার ছেলের বয়সী। কিন্তু তিনি আমার কোনো কথা না শুনে এখান থেকে চলে যেতে বললেন। তিনি বলের, মনে করেছিলাম এই হাসপাতালে ভালো ব্যবহার দিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। আজ বুঝতে পারলাম এটি কোনো হাসপাতাল নয়, অভদ্রতার প্রতিষ্ঠান, বেয়াদবে আড্ডাখানা।
আরেকজন সুমি নামের রোগী। বাড়ি সাতকানিয়া। ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে এসেছেন। শারিরীক সমস্যার কারণে মাটিতে বসে কাতরাচ্ছেন। কিন্তু এই হাসপাতালের কোনো কর্মচারি বা ডাক্তার বা প্রতিনিধি তার সাথে দেখাও করেন নি এবং টিকেটও দেন নি। এইভাবে দেশের মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত তামাশা করে যাচ্ছে মালুমঘাট খৃষ্টান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এইভাবে প্রায় ৫০/৬০ জন রোগী তাদের মনের দুঃখ একে অন্যকে বলতে শুনেছি। অনেকে বলতে শুনেছি, ওরা এখানে চিকিৎসার জন্য হাসপাতাল বানায়নি। শুধু তাদের ধর্মপ্রচারের জন্য এবং টাকা হাতিয়ে নেয়ার জন্য এই হাসপাতালটি বানিয়েছেন।
বিদেশী খৃষ্টান ডাক্তার যারা আছেন তারা হয়ত এবিষয়ে কিছুই জানেন না। ওদের মাথার উপর বন্দুক রেখে আমাদের দেশের কিছু নামে মাত্র ডাক্তার যারা উপজাতীর কোটায় চাকরি নিয়ে সাধারণ মানুষের সাথে যেমন তেমন আচরণ করেই যাচ্ছে।
ডেলিভারী ও অপারেশনের জন্য এই হাসপাতালটি প্রথম থেকে সুনাম অর্জন করে আসছে। কিন্তু ২/১ বছর ধরে কিছু ভূয়া ডাক্তার এখানে চাকুরি নিয়ে রোগীদেরকে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ রোগী এই হাসপাতালে চিকিৎসার ভালো ফলাফল না পেয়ে অন্যান্য হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। মোটকথা হলো এই হাসপাতালের কর্মচারিও একেক জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার।
হয়তঃ অনেকে বলবেন, ডেলিভারী ও অপারেশনের জন্য এই হাসপাতাল ভালো। হ্যাঁ, ভালো। তবে বর্তমানের জন্য, অতীতের জন্য। বিশ্বাস না হলে আপনি চিকিৎসা নিয়ে দেখেন। তখন আসল রহস্য বুঝতে পারবেন।
এই হাসপাতালে রোগীরা আসেন বিদেশী খৃষ্টান ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে। কিন্তু হাজারেও একজন রোগী ঐ ডাক্তারদের সাক্ষাৎ পায় না। স্থানীয় জ্বর/সর্দির কিছু হাতুড়ে ডাক্তারের ভূয়া চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যেতে হয় তাদেরকে। আমার কথা যদি মিথ্যা হয়, তাহলে যাচাই করুন। আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলছি- ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করলে বেশ কয়েকজন ভূয়া ডাক্তারের পরিচয় পাবেন!
এবিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রণালয়, বিভাগীয় কমিশনার, জেলাপ্রশাসক, সিভিল সার্জন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন চিকিৎসার জন্য আসা ভুক্তভোগীরা।